একটি স্বপ্নভঙ্গ! (বাইক দুর্ঘটনা)

প্রিয় জিনিসগুলোর মধ্যে আমার কম্পিউটার এবং বাইকই সবকিছু। সারাদিন কম্পিউটারে কাজ করে করে অথবা সারারাত ঘুমিয়েও যখন ক্লান্ত তখন বাইকটাই ছিল আমার বিনোদনের একমাত্র মাধ্যম। অনেক দিন রাতের ঘুম এবং কষ্ট উপেক্ষা করে জমানো টাকায় এটা কেনা। ইচ্ছে ছিল সারাদেশের প্রতিটি জেলা ঘুরবো এটা নিয়ে, কাজের ফাকে ফাকে একটু একটু করে সেটা হয়েও উঠছিল, বেশ কয়েকটি জেলা বাইক নিয়ে ঘোরার তালিকায় উঠেও এসেছিল, ঢাকা, নাটোর, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, পাবনা, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহসহ আরও বেশকিছু জেলা। Continue reading একটি স্বপ্নভঙ্গ! (বাইক দুর্ঘটনা)

স্বপ্নিল স্মৃতি

এত যেন অন্তহীন দিনগোনা, কতদিন গুনলে কেউ ক্লান্ত হয়, কতবার পরলে সব মেসেজ মুখস্ত হয়ে যায়? সময়ের মত সবসময় চলতে থাকা এই মেশিনটা যেন শুধু দুরত্বই বাড়িয়ে চললো। অপেক্ষার পালা যেন ইনফিনিট লুপে আছে শেষ হবার নামই নেই, জীবনটাই তো একটা লুপের মধ্যে, প্রতিদিন একেকটি এক্সিকিউশন  এর এধ্যে আরও কত নেস্টেড লুপ…… থাক আর এসব টেকি প্যাচালে নাই বা গেলাম!

Continue reading স্বপ্নিল স্মৃতি

পুরানো স্মৃতিকথা ২

সালটা সম্ভবত ২০০১ তখন ক্লাস ফাইভে পরি, একটা মেয়ে খুব জ্বালাইতো, ক্লাসে খোচাখুচি থেকে শুরু করে সবখানেই। নাম রিমা, পাবনার ভাঙ্গুরা উপজেলায় থাকি তখন, আব্বু তখন বড়ালব্রীজ শাখা অগ্রনীব্যংকের ম্যানেজার। মেয়েরা ছেলেদের থেকে একটু দ্রুতই ম্যাচিরউর হয়, বোকা আমি কিছুতেই পেরে উঠতাম না, একদিন ছোট ভাইকে নিয়ে ওদের স্কুলে (তখন ক্লাস সিক্সে এবং আমি বয়েজ স্কুলে এবং সে গার্লস স্কুলে) গেলাম ম্যাজিক শো দেখতে, আমাকে একা পেয়ে গালে একটা কষে থাপ্পর দিয়ে দৌড়িয়ে পালিয়ে গেল, আমি গালে হাত দিয়ে হতভম্ব হয়ে দাড়িয়ে থাকলাম  neutral

যথারীতি বন্ধুদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করলাম উল্টা তারা আমাকে নিয়ে অনেক হাসাহাসি করতে লাগলো  brokenheart আমার জেদ চেপে গেল, ওদিনই বিকেলে খেলছিলাম মাঠে, দেখি ও যাচ্ছে প্রাইভেট পড়ে। আর কই যাবে দৌড়ে গিয়ে কিল ঘুষি মেরে আমার মতই শুকনা (আমি আগে থেকেই শুকনা আরকি) মেয়েটার হারহাড্ডি গুরো করে দেয়ার মত অবস্থা। বেচারা মাঠের মধ্যে কেঁদেই ফেললো আমি আর কিছু না বলে মাঠের মাঝখানে চলে আসলাম। বন্ধুরা ঘটনার আকস্মিকতা সহ্য করার পর আমাকে বললো পালাই যাইতে। আমি বললাম বিনা কারনে মারি নাই যাবো না। খেলা ভন্ডুল হয়ে গেল। মেয়েটা কাদতে কাদতে বাড়ি চলে গেল। একটু চিন্তা হল যে যদি তার বাড়িতে বলে দেয় কিন্তু আমার মেজাজ সেরকম গরম ছিল, হাজার হলেও এতগুলা মেয়ের মধ্যে চর মেরেছে। এলাকার লোকজনও হতভম্ব হয়ে গেল কিন্তু কিছু বললো না কেউ হয়তো ভেবেই পাচ্ছে না শান্তশিষ্ট পোলাপানগুলার আজ হলটা কি!

আজ অনেকদিন পর পুরাতন বন্ধুদের কথা মনে পরছে, বসে বসে পুরাতন দিনগুলোর কথা ভাবছি, কতইনা মধুর ছিল সে দিনগুলো, আব্বুর শাসন বাদ দিলে সবকিছুই রঙ্গিন ছিল, এখনকার শহরের ছেলে মেয়েরা ওরকম দিন শুধু স্বপ্নেই ভাবতে পারবে। ভাঙ্গুরা থাকতে আসলেই অনেক মজা করেছি, নৌকা করে নদী পার হয়ে টাকা না দিয়ে পালাইছি, রাস্তা দিয়ে ভ্যান যাচ্ছে দৌড়ে উঠে বসে থেকেছি আবার যেই ভ্যানচালক টের পেয়ে গেছে সাথে সাথে দৌড়ে পলায়ন, মাঠে বসে বসে কাচা ধানের শিশ চাবিয়েছি আরও কতকি  dream

বেশকিছুদিন আগে ভাঙ্গুরার এক পুরোনো বন্ধুর সাথে দেখা হয়েছিল, ওর কাছেই শুনলাম রিমার একটা মেয়ে হয়েছে এতদিনে স্কুলে যাওয়ার কথা  love, একটা ফোন নম্বর ছিল কথা বলা হয় নাই কোনদিন সেটা দিয়ে, ওটাও হারিয়ে ফেলেছি, থাকলে হয়তোবা পিচ্চির সাথে কথা বলা যেত  sad

ফিলিংস লাইক বুড়া হয়ে গেলাম নাকি  ….

পুরানো স্মৃতিকথা, কোন একদিন

সামনে পরীক্ষা আর আমি কিনা ঘুরে ঘুরে বেড়াচ্ছি। সারাদিন কম্পু গুতাই আর মটরসাইকেল নিয়া ঘুইড়া বেড়াই। এলাকায় আমার ব্যাপক সুনাম(নাকি দুর্নাম  thinking) আমি নাকি প্রচুর স্পিডে ড্রাইভ করি। মটর সাইকেলও একপিস ডায়াং ১২৫, ব্যাটার যা শব্দ। তারউপর এটার সাইলেন্সারে একটু কারিশমা ফলাইছিলাম যার ফলে সাউন্ডটা রকেটের আওয়াজে রুপান্তরিত হয়েছে। বন্ধুর বাবার মতে আমি নাকি রকেট চালাই। কাউরে পেছনে বসায়া ভয়ংকর সব টার্নিং নিয়া পেছনের পাবলিককে ভয় ধরায়া দিতে আমার যে খুব ভাল লাগে। আর টার্নিং এর সময়ই দেখা যায় বন্ধুর বাবা আর নাহয় আমার বাবার বন্ধু  dontsee সোজা বাড়িতে নালিশ। যাহোক বকবক অনেক হয়েছে।

আমি একটা ছাত্রও বটে পরীক্ষার আগে সাজেশন আর প্রাইভেট ব্যাপক ব্যস্ত হয়া যাই, সাইফ দি বস এর মতে আমি হলাম চালাক এবং জেট বিমান জাতীয় ছাত্র। তো এখন কি করা দরকার প্রাইভেট পড়া দরকার সামনে যে পরীক্ষা, কলেজে ক্লাসও যে করি নাই। দিনে ২ বেলা করে এডওয়ার্ডে আড্ডা দিয়েছি। তো নিলাম প্রাইভেট সকাল ৮ টার দিকে যাইতাম পড়তে।

কোন একদিন

শীতের সকাল কুয়াশাও দেখা যায়, আকাশটা দেখে ভাবতেছি দিনটা কেমন যাবে  thinking আম্মুর সাথে খাওয়া নিয়া বাগড়া বাধানো আমার পুরাতন অভ্যাস। কি কারনে যেন খাওয়া পছন্দ হয় নাই। রাগ করে একটা ডিম সেদ্ধ করে খালি পেটে খেয়েই চললাম কলেজে। মটর সাইকেলটা নিলাম না বিশ্বরোডে দুদিন না চালিয়ে যদি বাবার মনটা একটু পাওয়া যায়  dream  আপনারাই বলেন একজন পুরোদস্তুর রাইডার এর জন্য সক্কালবেলা হল উপযুক্ত সময়,  whats_the_matter রোড ফাকা থাকে, এসময় ৯০-১০০ কিমি তো চালানোর মজাই আলাদা।

যাহোক প্রাইভেটে স্যার আসলো দেরী করে। পড়া হল এবার বাড়ি যাব, স্থান জনৈক রাস্তার মোর দাড়িয়ে আছি সিএনজি(আপনারা যারা ঢাকায় থাকেন তারা এই যানবহনকে লেগুনা বলেন) ধরব বলে। কেন যে গাড়িগুলা ঠিকমত আসে না  angry এত কেন অপেক্ষা করতে হবে! রাস্তা দিয়ে দেখি একটা মেয়ে আসছে এরকম গ্রামে এত সুন্দর স্মার্ট মেয়ে দেখে আমার একটু অবাকই লাগল, কিন্তু ঘড়িতে ১০ টা বাজলেও খিদেয় পেটের ১২ টা পার হয়ে গেছে তাই বেশি একটা নজর দিলাম না, এদিকে গাড়ি যেহেতু নাই তাই একটু ওদিকেই তাকিয়ে থাকি  neutral, যাহোক দেখলাম সুন্দর চেহারার একটি মেয়ে গার্লস স্কুলের ড্রেস পরিহিত, দুটো বেনিযুক্ত চুল, মাথার সামনে একটু চুল এনে ডিজাইন করা। সাথে একটু ছোট ছেলে ভাবলাম ছোট ভাই হবে। পিচ্চিটা হালকা লম্ফঝম্প দিতেছে। আমি তখন জ্যাকেট পরিহিত। কানে তো অলওয়েজ হেডফোন গান বাজতেছে লাভ সং এভারগ্রীন অ্যালবাম এর। শীতে হাত কিছুতেই আমি বাইরে রাখতে রাজি না  shame এদিকে পেটের বারোটা তাই চেহাড়ায় কোন নমনীয়তার সুর নেই, দুটো হাত পকেটে গুজেঁ মুখে একরাশ বিরক্তি নিয়ে আমি মেয়েটার দিকে তাকিয়ে। আমার মনে কোন ইমোশন নাই দায়িত্বপালন করতেছি আরকি এরকম ভাব। আমাকে পাস করে চলে গেল মেয়েটি। আমি আবার গাড়ি খুজতে লাগলাম। মনে হল একবার দেখি না পেছনে তাকিয়ে,  না না তোমার তো প্রেম ভালবাসার প্রতি আগ্রহ থাকার কথা না  shame তুমি হলা একটা যান্ত্রিক মানুষ এসব ফালতু কামে তোমার আগ্রহ থাকার কোন মানেই হয় না। আরে বাবা আমিকি প্রেম করব নাকি? এমনি দেখব আরকি। তাইলে তাকাও  wink তাকাইলাম, কট খাইছি  ghusi মাইয়াও দেখি ঠিক সময়মত তাকাইছে আমার দিকে  ghusi দুজনেই কট। তারাতারি উভয়ই উভয়কে সামলে নিলাম। ধুর ক্যান যে তাকাইলাম   cry ওয়েটটাই আর থাকল না  angry

সিএনজি চলে এসেছে, আমি আর দেরি করলাম না উঠে পরলাম। কিছু তো একটা করতে হবে  thinking গানগুলা কেন যেন ভাল লাগতেছে না। কিছুদিন হল একটা নাটক দেখছিলাম নাম হল এক্স ফ্যাক্টর, প্রথম দর্শনে প্রেম এর কথাটা মাথায় আইল। মাথার মধ্যে এটাই ঘুরতে লাগল। ধুর আর থাকা গেল না।

ফোন দিলাম বন্ধুরে

আমিঃ যেখানেই থাক ২০ মিনিটের মধ্যে রেডি হও একযায়গায় যেতে হবে
বন্ধুঃ কোথায় ?

আমিঃ যেখানেই হোক আমি বাইক নিয়া হাজির হচ্ছি।
বন্ধুঃ আমিতো এখনও ঘুমাইতেছি খাইনাই।

আমিঃ আমি অতশত জানি না আমি তোমার বাসায় আসতছি, গেট রেডি!
বন্ধুঃ আচ্ছা ঠিক আছে!!

বাসায় আসলাম হাপুর হুপুর খাইলাম বাইকটা বের করলাম এবং বন্ধুকে তুলে নিয়ে ১০ কিমি জার্নির জন্য রোডে উঠলাম, মিটারের কাঁটা ৮০ তে স্থির হল পুরা চ্যালেঞ্জ নিবিনা সালা  cool