জব নিয়ে জার্মানি যাওয়া – জার্মানি যাত্রা ১

এখন জব নিয়ে জার্মানী যাওয়াটা আগের তুলনায় অনেক সহজ, আপনার বাৎসরিক বেতন যদি ৪০০০০ ইউরো হয় তাহলে আপনি ব্লুকার্ড পাবেন। ব্লু কার্ড হল একটি ওয়ার্ক পারমিট ভিসা যা আপনাকে জার্মানীতে জব করার জন্য থাকার অনুমতি দিবে। ব্লু কার্ডের বিপরীতে আপনি আপনার স্ত্রী সন্তান নিয়ে জার্মানীতে বসবাস করতে পারবেন। ব্লু কার্ড সম্পর্কে আরও জানতে নিচের পোষ্টটি পরতে পারেন। জার্মানির পথেঃ৭ ব্লু-কার্ড, প্রবাসীদের জন্য জার্মানির দরজা।

 

ব্লুকার্ডের আবেদনের জন্য আপনার সর্বনিম্ন গ্রাজুয়েশন করা থাকতে হবে জার্মানী সরকার অনুমোদিত ভার্সিটি থেকে, এরকম অনুমোদিত বিশ্ববিদ্যালয় তালিকা পাবেন এখানে। মোটামুটি সব বিশ্ববিদ্যালয়গুলোই অনুমোদিত।

এরপর কাজ হল চাকরি পাওয়া। চাকরি পাওয়া নিয়ে তেমন কিছু বলার নেই আমার কারন চাকরি পাওয়ার কোন বাধাধরা নিয়ম নেই। Stackoverflow, Linkedin এগুলোতে নিয়মিত জব পোষ্ট আসে বিভিন্ন জার্মান কম্পানির, এসব পোষ্টে এপ্লাই করে তারপর ইন্টারর্ভিউ দিয়ে আপনাকে জব পেতে হবে। জব পাওয়ার পর কি করতে হবে সেটা নিয়েই মুলত আমার লিখা।

 

এমবেসিতে যাওয়ার প্রস্তুতি নেয়া: ভিসার এপ্লাই করা জন্য আপনার বেশকিছু কাগজপত্র লাগবে এর লিস্ট পাবেন এই লিঙ্কের ৯ নম্বর পয়েন্টে। এখানে উল্লেখিত মোটামুটি সবগুলোই কাগজপত্রই আপনার কাছে আছে বা আপনি সহজে যোগার করতে পারবেন একটি ছাড়া এটা হল “Rental contract or information of your future employer where you will be accommodated”। আপাতত এটা নিয়ে চিন্তা করতে হবে না। এপয়েন্টমেন্ট বুক করে ফেলুন এই লিংকে থেকে। উল্লেখ্য আপনি এপ্লাই করছেন D Visa/National Visa এর জন্য। ভিসার এপ্লাই সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য পাবেন এখানে। আমি কিছু তথ্য উল্লেখ করি যেগুলো ধরে রাখতে পারেন ওরা চাইবে। যেমন আপনার বর্তমান এবং পূর্ববর্তী কম্পানির এক্সপেরিয়েন্স লেটার, HSC, BSC এর ট্রান্সক্রিপ্ট, ভাল হয় এগুলো নিয়েই ইন্টার্ভিউ দিতে যাবেন। ফর্ম পুরন করার জন্য কোন পিডিএফ এডিটর ব্যবহার করতে পারেন এবং পূরন শেষে প্রিন্ট করে নিন। হাতেও ফর্ম পূরন করতে পারেন কিন্তু কাটাকাটি এড়ানোর জন্য কম্পিউটার থেকে পূরন করাটাই সুবিধাজক।

ইন্টারর্ভিউ: এমবেসিতে বাকি সব কাগজপত্রগুলো নিয়ে চলে যান। শুধু কাগজপত্র নিয়েই যাবেন ওরা কোনপ্রকার ব্যাগ নিয়ে ভেতরে ঢুকতে দিবে না শুধু ওয়ালেট, কলম এবং কাগপত্রের ফাইল এগুলো অনুমোদিত। সাক্ষাতকারের সময় তারা একোমোডেশনের ব্যাপারে আপনাকে একটা ইমেইল এড্রেস দিবে যেটাতে আপনার কম্পানির কোন প্রতিনিধিকে ইমেইলে কনফার্ম করতে হবে যে তারা আপনার একোমোডেশনের ব্যবস্থা করবে। বিস্তারিত তারাই বুঝিয়ে দিবে। এছাড়া তাদের যদি কোন কাগজ লাগে তার জন্য আপনাকে একটা লিস্ট দিবে যেটা ফাইল নম্বর মেনশন করে এ্যামবেসি গেটে দিয়ে যেতে পারবেন পরে কোন একসময়। ইন্টর্ভিউ এর সময় আপানাকে প্রচুর প্রশ্ন করা হবে। চিন্তার কোন কারন নাই কারন এগুলো সবকিছুই আপনার সম্পর্কে। পড়াশুনা, এক্সপার্টিজ, স্কিল, সিজিপিএ ইত্যাদি বিষয়ে প্রশ্ন করবে মূলত।

ভিসা কালেকশন: আমার সময় লেগেছিল ২২ দিন। সাধারনত এরকমই সময় লাগে, প্রসেসিং শেষ হলে আপনাকে মেইলে অথবা ফোনে জানানো হবে এমবেসিতে আসার জন্য। মেইলের একটা প্রিন্টেড কপি (যদি মেইল করে থাকে), পাসপোর্ট আর ভিসা আবেদন গ্রহন করার রশিদ নিয়ে চলে যান এমবেসিতে। ভিসা হয়ে থাকলে আপনার পাসপোর্টে তারা ভিসা লাগিয়ে দিবে, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ভিসা না হওয়ার কোন কারন দেখি না। ভিসা যদি না হয়ে থাকে তাহলে সম্ভবত আবার এপ্লাই করতে পারবেন, তাদের কাছে সহায়তা চাইতে পারেন এ ব্যাপারে।

ভিসা হাতে পাওয়ার পর করনীয়: ভিসা হাতে পাওয়ার পর খুশিতে আত্বহারা হয়ে বাসায় এসে সবাইকে মিস্টি খাইয়ে দিয়ে প্রথম কাজটা যেটা হবে বর্তমান কম্পানি ছাড়ার প্রস্তুতি নিয়ে রিজাইন দিয়ে দিন। আপনাকে এখন যাওয়ার প্রস্তুতিমুলক কিছু কাজ করতে হবে। আমাদের দেশের নিয়ম অনুযায়ী ইমিগ্রেশন ক্লিয়ারেন্স বা বহির্গমন ছাড়পত্র এবং ম্যানপাওয়ার কার্ডের জন্য প্রবাসী কল্যান ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রনালয় এর অধীন ওয়েজ আর্নার্স কল্যান বোর্ড এর অফিসে আবেদন করতে হবে। যেতেহু এটা যেকোন দেশে যেতেই লাগে তাই এর বিস্তারিত আমি পরবর্তী আরেকটি পোষ্টে লিখছি।

জার্মানী বিষয়ে সবথেকে ভাল রিসোর্স হল BSAAG Group

  • ধন্যবাদ আসিফ ভাই। পোস্টটা সত্যি খুব উপকারে আসবে।